POTHIKTV

জনসেবার মান বাড়াতে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ নয়, গ্রাহক সন্তুষ্টিই প্রধান শর্ত: যুক্তরাজ্যে আলোচনা

যুক্তরাজ্যের জনসেবা খাতে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার ও মানোন্নয়নে প্রথাগত আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ এবং ফরম পূরণের চর্চা বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

জনসেবার মান বাড়াতে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ নয়, গ্রাহক সন্তুষ্টিই প্রধান শর্ত: যুক্তরাজ্যে আলোচনা

Health ডেস্ক: ৪ অক্টোবর ২০২৬, ৭:১৮ পূর্বাহ্ন

যুক্তরাজ্যের জনসেবা খাতে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার ও মানোন্নয়নে প্রথাগত আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ এবং কড়া বিধিনিষেধের চেয়ে সেবাগ্রহীতার সন্তুষ্টিকে মূল লক্ষ্য করা উচিত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম যখন যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তনের কথা বলছেন, ঠিক তখনই একাধিক মূল সংস্কার কর্মসূচি ২০৩০-এর দশকে পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সরকার পুনর্গঠন, পানি খাতের সংস্কার, সামাজিক পরিচর্যা এবং কল্যাণমূলক ব্যবস্থার মতো বিষয়গুলো পরবর্তী সরকারের জন্য ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থনীতি বা জনসেবা পুনর্গঠনের পদক্ষেপে বিলম্ব না করে এখনই বিদ্যমান জ্ঞানের আলোকেই পরিবর্তন আনা সম্ভব, যা ২০২৯ সালের নির্বাচনের আগেই জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে। অর্থনীতিবিদ স্যার জন কাই তার গবেষণায় দেখিয়েছেন, যে কোনো প্রতিষ্ঠানের সাফল্য সরাসরি আসে না, বরং সেবার মান নিশ্চিত করার পরোক্ষ উপজাত হিসেবে আসে। তার মতে, বেসরকারি খাতে সেবার মান ভালো হলে মুনাফা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আসে, আর সরকারি খাতে আসে বিপুল সাশ্রয়।

যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা (এনএইচএস)-এর উদাহরণের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে যে, বর্তমানে সাধারণ চিকিৎসা (জিপি) ও আউটপেশেন্ট বিভাগে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার নতুন পদ্ধতির কারণে রোগীদের সন্তুষ্টি কিছুটা বেড়েছে। অন্যদিকে, মাতৃত্বকালীন ইউনিটে শিশু মৃত্যুর হার ধামাচাপা দেওয়ার মতো মারাত্মক ব্যর্থতাও সামনে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, এই সাফল্য বা ব্যর্থতার কোনোটিই স্বাস্থ্য খাতের ওপর অতিরিক্ত নজরদারি বা আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণের কারণে ঘটেনি। উল্টো অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ উদ্ভাবনী শক্তিকে বাধাগ্রস্ত করে এবং ব্যবস্থার অপব্যবহার বাড়ায়।

সরকারি সংস্থাগুলোর কাজের অসঙ্গতির আরেকটি উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে পরিবেশ ও সড়ক খাতে। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের এনভায়রনমেন্ট এজেন্সি বিভিন্ন কাউন্সিলে আধা মিলিয়ন গাছ লাগানোর অর্থায়নের ঘোষণা দিয়েছে। অথচ কেমব্রিজের উত্তরে এ১৪ সড়কে ২০২০ সালে ন্যাশনাল হাইওয়েজ যে সাড়ে আট লাখ চারা রোপণ করেছিল, তিন বছরের মধ্যে তার চারভাগের তিনভাগই মারা গেছে। এতে প্রথাগত প্রোটোকল বা চেক-বক্স সংস্কৃতির চরম ব্যর্থতা প্রকাশ পায়।

হোয়াাইটহলের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব বা ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সাবেক ডেপুটি গভর্নর স্যার জন কানলিফের মতো অনেকে যখন আরও কঠোর নজরদারির কথা বলছেন, তখন প্রখ্যাত ব্যবস্থাপনা পরামর্শক জন সেডন ভিন্ন পথ বাতলাচ্ছেন। সেডন জানান, কোনো সংস্থা তার মূল লক্ষ্য কীভাবে অর্জিত করছে, তার ওপর ভিত্তি করে তদারকি পরিচালিত হওয়া উচিত। প্রথাগত সন্দেহ ও অনাস্থার মানসিকতা থেকে সরকারি কর্মকর্তাদের মুক্ত করা না গেলে সেবার প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।

অথেন্টিক সোর্স: The Guardian – Health

0
0 comments·0 shares

সম্পর্কিত সংবাদ

এই বিভাগের উল্লেখযোগ্য সংবাদ

Health →