স্মার্টফোন না থাকায় ব্রিটেনে বেশি বাস ভাড়া গুনতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের
Education ডেস্ক: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫:১৮ পূর্বাহ্নইংল্যান্ডের যেসব শিক্ষার্থীর কাছে স্মার্টফোন নেই, তারা বাসের সস্তা টিকিট বা ছাড়ের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং বছরে শত শত পাউন্ড অতিরিক্ত বাস ভাড়া দিতে বাধ্য হচ্ছে। কমানো মূল্যের বাস পাস ও ডিসকাউন্ট সুবিধা কেবল মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে চালুর কারণে এ ধরনের বৈষম্য তৈরি হয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও আন্দোলনকারীরা।সমালোচকদের মতে, ছাড়ের সুবিধা কেবল অ্যাপে সীমাবদ্ধ রাখার ফলে ইংল্যান্ডের স্কুলগুলোতে স্মার্টফোনের ব্যবহার…
Education ডেস্ক: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫:১৮ পূর্বাহ্ন
ইংল্যান্ডের যেসব শিক্ষার্থীর কাছে স্মার্টফোন নেই, তারা বাসের সস্তা টিকিট বা ছাড়ের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং বছরে শত শত পাউন্ড অতিরিক্ত বাস ভাড়া দিতে বাধ্য হচ্ছে। কমানো মূল্যের বাস পাস ও ডিসকাউন্ট সুবিধা কেবল মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে চালুর কারণে এ ধরনের বৈষম্য তৈরি হয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও আন্দোলনকারীরা।
সমালোচকদের মতে, ছাড়ের সুবিধা কেবল অ্যাপে সীমাবদ্ধ রাখার ফলে ইংল্যান্ডের স্কুলগুলোতে স্মার্টফোনের ব্যবহার কমানোর যে সরকারি নির্দেশনা বা প্রচেষ্টা রয়েছে, তা সরাসরি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক পরিবার তাদের সন্তানদের স্মার্টফোনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দূরে রাখতে বাটন ফোন বা সাধারণ ফোন কিনে দিলেও বাস ভাড়ার ক্ষেত্রে ডিজিটাল ব্যবস্থার কারণে চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে।
ডার্বিশায়ারের বাসিন্দা অ্যাডেল নাইটলি জানান, তার ১১ বছর বয়সী মেয়েকে স্কুলে যাতায়াতে বছরে অতিরিক্ত ৫৪৬ পাউন্ড (প্রায় আশি হাজার টাকার বেশি) বাড়তি বাস ভাড়া গুনতে হচ্ছে। ডার্বিশায়ার কাউন্টি কাউন্সিল ১৮ বছর বা তার কম বয়সীদের জন্য ‘বি-লাইন’ কার্ডের মাধ্যমে বাসের একমুখী ভাড়া সর্বোচ্চ ১.৫০ পাউন্ড নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু বাস পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ট্রেন্টবার্টন সুবিধাটি পেতে একটি স্মার্টফোন অ্যাপে সেই কার্ড নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করেছে।
নাইটলি বলেন, "আমার মেয়ে চলতি মাসে মাধ্যমিক স্কুলে ভর্তি হলে আমরা তাকে স্মার্টফোন না দিয়ে একটি সাধারণ ফোন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। কিন্তু ট্রেন্টবার্টনের এই বয়সভিত্তিক ছাড় পেতে হলে শিক্ষার্থীর কার্ডটি অ্যাপের সাথে যুক্ত করতে হয়। ড্রাইভারকে একই ছাত্রকার্ড দেখিয়ে নগদ টাকা বা কার্ডে মূল মূল্য পরিশোধ করলে সেই ডিসকাউন্ট পাওয়া যায় না।"
ট্রেন্টবার্টন বাস কোম্পানির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তাদের বাসগুলোতে থাকা টিকিট ট্র্যাকিং মেশিনগুলো সরাসরি কাউন্টি কাউন্সিলের ইস্যু করা প্লাস্টিক কার্ড রিড করতে পারে না। তবে অনূর্ধ্ব-১৯ যাত্রীদের সস্তা ভাড়া দিতে দ্রুত একটি নতুন ফিজিক্যাল কার্ড তৈরির কাজ চলছে। তারা দাবি করে, নতুন কার্ড না আসা পর্যন্ত বিকল্প বিভিন্ন মূল্যছাড় চালু রয়েছে।
ইস্ট মিডল্যান্ডস কম্বাইন্ড কাউন্টি অথরিটি জানিয়েছে, তারা যেসব অভিভাবক সন্তানদের স্মার্টফোন দিতে চান না, তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল। পুরো অঞ্চলের টিকিটিং ব্যবস্থা ও ভাড়ার কৌশল পর্যালোচনার সময় এই বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
যুক্তরাজ্যের সামাজিক সংগঠন 'স্মার্টফোন ফ্রি চাইল্ডহুড'-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ডেইজি গ্রিনওয়েল বলেন, অতিরিক্ত ডিজিটাল নির্ভরতার ফলে নিম্নআয়ের পরিবারগুলো বেশি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। একইসঙ্গে এটি শিশুদের স্ক্রিন টাইম বা মোবাইল দেখার সময় কমানোর উদ্যোগকেও ব্যাহত করছে। সারা দেশে হাজার হাজার অভিভাবক যখন সন্তানদের হাতে ১৪ বছরের আগে স্মার্টফোন না দেওয়ার আন্দোলন করছেন, তখন নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবাগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা হচ্ছে যেন ধরে নেওয়া হচ্ছে সব শিশুর কাছেই স্মার্টফোন রয়েছে।
অন্যান্য একাধিক আঞ্চলিক বাস অপারেটর, যেমন স্টেজকোচ এবং কম্পাস—উভয়েই সেরা ডিসকাউন্ট সুবিধা দেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোন থাকা বাধ্যতামূলক করেছে। এর ফলে যেসব পরিবার শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ ও মানসিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় স্মার্টফোন দেওয়া থেকে বিরত থাকছে, তারা বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানার মতো সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত জুন মাসে যুক্তরাজ্যের স্কুলগুলোতে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ সংক্রান্ত নিয়ম কার্যকর হয় এবং অনেক স্কুল চত্বরে স্মার্টফোন আনাই পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। তবে শিক্ষা দপ্তর (ডিফই) জানিয়েছে, এই আইনটি কেবল স্কুল প্রাঙ্গণের জন্য প্রযোজ্য এবং স্কুলে যাওয়ার পথের গণপরিবহনের ক্ষেত্রে ভাড়ার ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বাস অপারেটরদের নিজস্ব সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। আন্দোলনকারীদের মতে, কম ভাড়ায় যাতায়াতের সুযোগ থেকে যেন কোনো শিক্ষার্থী বঞ্চিত না হয়, সেজন্য সরকার ও বাস কোম্পানিগুলোর দ্রুত একটি সমন্বিত বিকল্প আনা উচিত।















